Startup in Bangladesh - I do not understand!

Startup in Bangladesh - I do not understand!

2019-09-11 03:11:44

https://muktodharaltd.com/Startup in Bangladesh - I do not understand!

বাংলাদেশে স্টার্টআপ কি -বুঝতে পারছি না !

বাংলাদেশে স্টার্টআপ নিয়ে ইদানিং খুবই আলোচনা হচ্ছে! সরকারি পর্যায়ে স্টার্টআপ কোম্পানী করা হয়েছে। ৫০০ কোটি টাকার এই কোম্পানী বাংলাদেশে ষ্টার্টআপ গুলোকে ফান্ডিং করবে! প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষন দেবে! সবকিছু মিলিয়ে আমাদের দেশের বিশাল সংখ্যক উচ্চশিক্ষিত বেকার তরুন সমাজকে কাজে লাগিয়ে নিকট ভবিষ্যতে মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে বিশ্বের উন্নত দেশের কাতারে শামিল করাটাই সরকারের ভিশন ২০২১ বাস্তবায়ন করাই ষ্টার্টআপ কোম্পানীর একটি অভিষ্ট লক্ষ্য!

এই লক্ষ্য অর্জনে উদ্যোক্তা খোঁজার মিশনে ইতিমধ্যে রীতিমতো টেন্ডার দিয়ে আউট সোসিং ফার্ম নিয়োগ দিয়ে রাস্তায় রাস্তায় উদ্যোক্তা খোজার মিশনে নেমেছে বিডা (Bangladesh Investment Development Authority- BIDA)। বিষয়টা কতটুকু বাস্তবসম্মত ও ফলপ্রসু হবে সেটা সময়ই বলে দেবে। আগাম মন্তব্য করে সরকারের এই প্রচেষ্টাকে প্রশ্নবিদ্ধ করার দু:সাধ্য দেখানো আমার কাজ নয়। তবুও এমন উদ্ভট চিন্তা-ভাবনার মধ্য দিয়ে উদ্যোক্তা খুজে, উদ্যোক্তা তৈরীর মিশন খুব একটা সফল হবেনা বলেই বিশ্বাস করি!

আমাদের তরুনদের মাঝে আরেকটা ট্রেন্ড ইদানিং দারুনভাবে সাড়া ফেলেছে! তা হলো স্টার্টআপ! স্টার্টআপ এই, স্টার্টআপ সেই। সোস্যাল মিডিয়ায় স্টার্টআপ নিয়ে ব্যাপক মাতামাতি। সবাই ব্যস্ত স্টার্টআপ নিয়ে।টেকনোলজিষ্ট প্রজন্মের তরুন না হওয়ায়, এর কথা শুনে, ওর কথা পড়ে এবং অন্যজনের কথা নোট করে জানার চেষ্টা করি স্টার্টআপ আসলে কি?

আমার একজন মেন্টর।আমি যাকে ফলো করি! যাঁর হাত ধরে অনেকেই এখন সফল ডিজিটাল মার্কেটার। আয় করছেন নিজের জন্য এবং অবশ্রই দেশের জন্যও। মজার ব্যাপার হলো তিনি নিজেও কনফিউজড স্টার্টআপ ট্রেন্ড নিয়ে। একটা সেমিনারে এই নিয়ে কথাও বলেছেন অকপটে। তিনিই লিখছেন সোস্যাল মিডিয়ায়, বাংলাদেশে স্টার্টআপ কি? –বুঝতে পারছেন না! আবুল কাশেম ভাই লিখছেন,  

“স্টার্টআপ বাইবেল বলা যায় লিন স্টার্টআপ বইটাকে। বইটাতে স্টার্টআপ কি এই নিয়ে একটা ডেফিনেশন আছে। সেই ডেফিনেশন অনুযায়ী সব ব্যবসা স্টার্টআপ না। ধরেন একই বিজনেস মডেল কিন্তু প্রাইচ ভিন্ন, লেভেলিং ভিন্ন প্লাস টুকিটাকি আর কিছু বিষয় ভিন্ন। সেই ধরনের বিজনেস স্টার্টআপ না। এরিক রিজের ডেফিনেশন হলো স্টার্টআপ মানে ইনভোশন যেখানে এক্সট্রিম আনচার্টেনিটি জড়িত। কোন সমস্যার এমন সমাধান যা আগে কেউ যে ভাবে আপনি করতে চাচ্ছেন সেই ভাবে করে নাই। বাংলাদেশের বর্তমান আইসিটি ট্রেন্ড হলো স্টার্টআপ। আশে পাশে যা শুনি পড়ি তাতে মনে হচ্ছে যে কোন নতুন ব্যবসাকেই এখানে স্টার্টআপ মনে করে। আমার জানাটা কি ভুল? ভুল হলে বরং খুশীই হবো।

স্টার্টআপ নিয়ে রেফারেন্স দিতে গিয়ে লিন্ক শেয়ার করেছেন কমেন্টে, যান্ত্রিক এর মাষ্টার মাইন্ড আল-ফারুক শুভ। লিখছেন,

"বাংলাদেশে কয়টা স্টার্টআপ ব্রেক ইভেনে গিয়েছে?" - এই প্রশ্নটা করেছেন আমাকে বেশ কয়েকজন।

আসলে স্টার্টআপ এর সফলতা ব্রেক ইভেন দিয়ে জাজ করা কঠিন, এবং সম্ভবত ভুল। কারণ, স্টার্ট আপ বিজনেস এর সাথে কনভেনশনাল বিজনেস এর পার্থক্যটাই হচ্ছে তাদের মিশন এ।

কনভেনশনাল বিজনেস সাধারণত কোন একটা নির্দিস্ট সংখ্যক কাস্টমার গ্রুপ এর কাছে কিছু স্ট্যান্ডার্ড প্রোডাক্ট (সাধারণত নতুন কিছু নয়) সেল করে, এবং দিন শেষে খরচ বাদ দিয়ে প্রফিট করে। খেয়াল করুন, প্রফিট করাটাই তাদের মূল লক্ষ্য, পরবর্তীতে প্রফিট এর উপর ডিপেন্ড করে বিজনেস গ্রো করাটাও তাদের উদ্দেশ্য থাকে। কিন্তু, যত দ্রুত সম্ভব ব্রেক ইভেন এ যাওয়াটাই তাঁদের মূল টার্গেট।

অন্যদিকে, স্টার্টআপ বিজনেস মূলত কোন একটা সমস্যাকে সমাধান করার চেস্টা করে বিদ্যমান অনেক কিছুকে Disruption করে নতুন কোন প্রোডাক্ট বানানোর মাধ্যমে, যেটিঃ

১) বিশাল সংখ্যক মানুষের গুরুত্বপূর্ণ কোন সমস্যার সমাধান করবে।

২) অল্প খরচ ও এফোর্ট দিয়ে অনেক বেশি গ্রো করা যাবে (স্কেলেবল)।

৩) রেভিনিউ জেনারেট করবে।

খেয়াল করে দেখুন, রেভিনিউ জেনারেশন হচ্ছে তৃতীয় লক্ষ্য।

এখন, একটা স্টার্টআপ যদি ব্রেক ইভেনে যায়, সেটি অবশ্যই ভাল ব্যাপার, কিন্তু সবার আগে দেখতে হবে, সেটি আসলেই ইনোভেটিভ কোন ডিসরাপশন এর মাধ্যমে বিশাল সংখ্যক মানুষের গুরুত্বপূর্ণ কোন সমস্যার সঠিক সমাধান করতে পেরেছে কি না, এবং সেটি এমন একটি বিজনেস মডেল ইমপ্লিমেন্ট করতে পেরেছে কিনা যেটি অল্প খরচ ও এফোর্ট দিয়ে অনেক স্কেল করা যাবে, এবং দিনশেষে সাসটেইন করার মত রেভিনিউ জেনারেট করতে পারবে।

একটা সত্যিকারের স্কেলেবল ও ফাস্ট গ্রোয়িং স্টার্টআপ এর পক্ষে ব্রেক ইভেনে যাওয়া খুবই কঠিন। কারণ, তারা কখনই সেটল করতে পারেনা। তাদেরকে সবসময় গ্রো করতে হয়, সবসময় ইনোভেশন করতে হয়, এবং নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ নিয়ে সেগুলোতে রি-ইনভেস্ট করতে হয় (যেমনঃ উবার)।

সত্যি কথা বলতে কি, অজস্র স্টার্টআপ চাইলেই ব্রেক ইভেনে যেতে পারে, নতুন কোন চ্যালেঞ্জ এ যদি তারা ইনভেস্ট না করে, কিংবা অনেক বেশি গ্রো করার টার্গেট যদি তারা না নেয়। কিন্তু তারা সেটি করবেনা। কারণ, তারা যদি সেটি করে, তাহলে তারা কখনই তাঁদের কাজের মাধ্যমে বিশাল সংখ্যক মানুষের জীবন বদলে দিতে পারবেনা, কিংবা গোটা জাতি, দেশ কিংবা পৃথিবীকে নতুন কিছু দিয়ে যেতে পারবেনা।

কাজেই, ব্রেক ইভেন দিয়ে স্টার্টআপ কে জাজ করাটা হচ্ছে ভুল।

প্রত্তুতরে আবু দাউদ বলছেন,

“ভুল হলেও করার কিছু নাই ভাই, স্টেরিওটাইপ চিন্তা থেকে বের করা খুব মুশকিল। সোশ্যাল ক্যাপিটাল বিষয়টা ইনভেস্টোররা মাথায় আনেনা, তেমনি কপিরাইট বা ডিজিটাল এ্যাসেট এই বিষয়গুলা ভ্যালু দিতে চায়না কেউ। সরাসরি ব্রান্ড ভ্যালু মাপার মত যোগ্য লোক ও নাই দেশে, বুঝার ও নাই, বুঝানোর ও তেমন না।

এখানে আমার কোশ্চেন আছে একটা- যদি ব্রেক ইভেন নাই থাকে (যদি সেটাই ইনভেস্টমেন্ট কে পি আই হয়, আবার সবাই ROI জানতে চায় বা বুঝতে চায়, কিন্তু সত্যিকারের ROI এখন পর্যন্ত কতটূকু প্ল্যান এগেইন্সট রিয়েলিটীতে মিলছে? আমার তো মনে হয়, হয় অনেক বেশী হয় অথবা একদম ই ম্যাচ করেনা। ছোট ইনভেস্টোররা রিটার্ন কিভাবে পাবেন, যদি ব্যবসা রিটার্ন দিতে না পারে বা কন্টীনিউয়াস ইনোভেশনে থাকে তাহলে অলয়েজ ফান্ড রিকুয়ারমেন্ট এ থাকবে, আমার ধারনা। এইটা জানতে চাইলাম কারন আপনার এনালাইসিসের সাথে আমাদের সিচুয়েশন বেশ মিল, আমরা সেইম কোয়েশ্চন এর মাঝে যাচ্ছি, কনভিন্সিং এন্সার করার জন্য জিজ্ঞাসা।(বাংলাদেশে) স্টার্টআপ কি -বুঝতে পারছি না" 

সবশেষে বলবো এই যে বাংলাদেশে স্টার্টআপ নিয়ে এত্তো মাতামাতিটা হচ্ছে!বাংলাদেশে স্টার্টআপ গুলোকে ফান্ডিং ও নার্সিং করার জন্য সরকার কোম্পানী গঠন করেছে! দিনশেষে সোস্যাল ক্যাপিটাল এবং প্রফিট ক্যাপিটালটা কিন্তু সরকার তথা দেশকেই উন্নত করবে।

বাংলাদেশ যদি সত্যিকার অর্থেই তারুন্যের শক্তিকে কাজে লাগিয়ে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে এগিয়ে যেতে চায়(!) এবং এজন্য স্টার্টআপ ইকোসিষ্টেম তৈরী করতে হবে। স্টার্টআপ ইকোসিষ্টেম তৈরী করতে স্টার্টআপ কোম্পানীগুলোকে শুরুতেই ট্যাক্সের আওতামুক্ত রাখতে হবে। বাড়ি ভাড়ার উপর ভ্যাট প্রদান রহিত করতে হবে।স্টার্টআপ বা স্টার্টআপ কোম্পানীগুলো ভ্যাট-ট্যাক্স দিবে, তবে ব্যবসা শুরুর আগে ভ্যাট-ট্যাক্স দিতে গেলে একটু হলেও হোঁচট খেতে হবে। এটা এনবিআর বা সংশ্লিষ্ট কর্তা-ব্যক্তিরাও হয়তো বুঝে। কিন্তু ইন অ্যা রং টাইম স্টার্টআপ কোম্পানীগুলো বড় অন্কের ট্যাক্স দিবে। উদ্যোক্তা তৈরীর মিশনে নামা, উদ্যোক্তা তৈরীর জন্য স্টার্টআপ কোম্পানী গড়ে তরুন উদ্যোক্তাদের সহায়তা করার প্রত্যয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও স্টার্টআপ সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি দেশের স্টার্টআপগুলো এই প্রত্যাশাটাই করছে!

সম্পাদনায়: মো: হামিদুর রহমান